🍂Shahiduzzaman Fahim
এরপর অনেক ঋতু বদলে যাবে।
আমাদের নামের ওপর ধুলো জমবে,
স্মৃতিরাও ধীরে ধীরে
নিজেদের ঠিকানা বদলে নেবে।
হয়তো কোনো এক অলস বিকেলে
তুমি একটি পুরোনো বইয়ের দোকানে ঢুকবে।
অযত্নে পড়ে থাকা বইগুলোর ভিড়ে
একটি মলিন কাব্যগ্রন্থ
হঠাৎ তোমার হাতে এসে থামবে।
পাতা উল্টাতে উল্টাতে
একটি কবিতা নিঃশব্দে উঠে দাঁড়িয়ে
তোমাকে বিনীত সম্ভাষণ জানাবে-
❝অনেকদিন পর দেখা।
আপনি কি এখনও
নিঃশব্দে কষ্ট পেতে জানেন ?❞
তুমি বিস্মিত চোখে তাকাবে।
মনে করার চেষ্টা করবে,
কোথায় যেন এই কণ্ঠস্বর শুনেছ।
কিছুই মনে পড়বে না।
শুধু বুকের ভেতর
একটি অচেনা শূন্যতা
ধীরে ধীরে নিজের নাম লিখতে শুরু করবে।
তারপর তুমি মৃদু হেসে বলবে-
❝ক্ষমা করবেন…
আমরা কি আগে কোথাও দেখা করেছি ?❞
কবিতাটি উত্তর দেবে না।
কারণ সে জানে,
কিছু মানুষের পরিচয়
নামে নয়,
অনুপস্থিতিতে লেখা থাকে।
তুমি বইটি বন্ধ করবে।
জানালার ওপারে সন্ধ্যা নেমে আসবে।
পাখিরা ফিরে যাবে নিজেদের বাসায়,
শুধু তোমার ভেতরে
একটি অসমাপ্ত অনুভূতি
ফিরে যাওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাবে না।
আমি তখন কোথাও থাকব না-
না তোমার শহরে,
না তোমার জীবনে।
শুধু একটি কবিতার ভেতর
নিঃশব্দে বেঁচে থাকব।
আর তুমি হয়তো কোনোদিনই জানতে পারবে না-
সেদিন যে কবিতাটি তোমাকে সম্ভাষণ জানিয়েছিল,
সে আসলে কোনো কবিতা ছিল না;
সে ছিল
তোমাকে একসময় নিঃশব্দে ভালোবেসে ফেলা
একজন মানুষের শেষ পরিচয়।