———তাহা ইয়াসিন
‘জাগো অনশন– বন্দি, ওঠ রে যত/জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যাহত।’ গানটি লিখেছিলেন ফরাসি শ্রমিক কবি ইউজিন পতিয়ের (১৮১৬-১৮৮৭)। সারা পৃথিবীর শ্রমিকশ্রেণির জাতীয় সংগীত এটি। সকল শ্রমজীবী মানুষ গানটিতে এক মহান অনুভূতি অনুভব করে। দুনিয়ার শোষিত মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সাহস যেমন গানটিতে পায় তেমনি শৃঙ্খল ভাঙার শক্তিও সঞ্চয় করে। পৃথিবীর প্রায় সকল ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে। বাংলায় এটি কখন অনূদিত হয় এবং কীভাবে বাঙালির কাছে জনপ্রিয় হয় তা এখানে জানার চেষ্টা করা হবে। পিয়ের দেগেতার সুরে ১৮৭১ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসিতে এটি প্যারি-কমিউনে প্রথম গাওয়া হয়। পরে তা স্বীকৃত হয় কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে । মূল ফরাসি রচনা ইউজিন পতিয়ের -এর ইংরেজি অনুবাদ নিম্নরূপ:
Arise prisoners of starvations
Arise ye wretchad of the earth
For justice thunders condemnation
And a nwe world is in the birth.
Then away with all your superstition,
servile masses arise arise,
we`ll change fortheith old conditions
and spurn the dust to win the prize
Then comrades come rally
and last fight let us face,
The internationale
unites the human race.
কাজী নজরুল ইসলাম এটি প্রথম ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন। অনুবাদের পর ছাপা হয় কমরেড মুজাফফর আহমদ সম্পাদিত ‘গণবাণী’ পত্রিকায় । নজরুল অনূদিত গানটি নিম্নরূপ:
জাগো অনশন – বন্দি, ওঠ রে যত
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত।
যত অত্যাচারে আজি বজ্রহানি,
হাঁকে নিপীড়িত জন-মন-মথিত বাণী,
নব। জনম লভি, অভিনব ধরণী
ওরে ওই আগত।।
আজি শৃঙ্খল সনাতন শাস্ত্র-আচার
মূল সর্বনাশের, এরে ভাঙিব এবার।
ভেদি’ দৈত্য – কারা
আয় সর্বহারা।
কেহ। রহিবে না আর পর– পদ– আনত।
গানটি অবলম্বন করে নজরুল এর সাথে একটি কোরাস জুড়ে দেন। কোরাসটি এরকম;
নব ভিত্তি পরে
নব জীবন জগত হবে উত্থিত রে।
শোন অত্যাচারী! শোন রে সঞ্চয়ী!
ছিনু সর্বহারা, হব সর্বজয়ী!
ওরে সর্বশেষের এই সংগ্রাম মাঝ
নিজ নিজ অধিকার জুড়ে দাঁড়া সবে আজ।
এই ‘অন্তর –ন্যাশনাল –সংহতি’ রে
হবে নিখিল –মানব –জাতি সমুদ্ধত।।
নজরুল গানটির শিরোনাম দেন ‘অন্তর ন্যাশনাল সংগীত’। এটি তাঁর ‘ফণিমনসা’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই গানটির অনুবাদ প্রসঙ্গে কমরেড মুজফফর আহমদ তাঁর ‘কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা’ বইতে লিখেছেন,
’১৯২৬ সালে আমি কাজী নজরুলকে এই গানটি বাংলায় তরজমা করতে বলি। তার জন্য গানের একটা কপি তো তাকে জোগাড় করে দিতে হবে। চেষ্টা করেও আমি এমন একখানা বই জোগাড় করতে পারলাম না যাতে ব্রিটেনের মজুররা যে তরজমাটা গায় তা পাওয়া যায়। আমেরিকার তরজমাটি পাওয়া গেল আপটন সিংক্লেয়ারের হেল (Hell, A verse Drama) নামক নাটিকায়। ব্রিটেনে গাওয়া তরজমার সাথে দুটি কিংবা তিনটি শব্দের তফাৎ। তাতে মানে কিছু বদলায়নি, সুর তো নয়ই। আমাদের কেউ তখন ইন্টারন্যাশনাল সংগীতের সুর জানতেন না। নজরুলও জানত না। নজরুল আমায় বলল যে, এর একটি স্বরলিপি (নোটেশন) জোগাড় করে দাও। তাহলে তা যন্ত্রে বাজিয়ে সেই সুরের চৌহুদ্দির ভিতরে গানটি আমি তরজমা করে দেব। কিন্তু এই নোটেশন আমাদের কেউ দিতে পারলেন না।আমি তাকে বললাম নোটেশন ছাড়াই তুমি গানটির অনুবাদ করে দাও। প্রথমে একবার তা ‘গণবাণী’তে ছাপতে দিই, তারপর দেখা যাবে কি করা যায়। তখনই সেখানে বসেই সে গানটির অনুবাদ করে দিল। বাংলা ভাষার সর্বোৎকৃষ্ট অনুবাদ তো বটেই, আমার বিশ্বাস ভারতীয় ভাষাগুলির যত অনুবাদ হয়েছে সেসবেরও সেরা।
বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ হীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের হিন্দি অনুবাদ দেখেছি, তাঁর মনগড়া কথায় তা ভরা। নজরুলের অনুবাদে তার মনগড়া কথা নেই। তরজমা করার পরে নজরুল আবারও আমাদের বলে দিল যে তার পরেও যদি আমরা নোটেশন জোগাড় করে দিই তবে সে গানে সুর-সংযোগ করে দেবে। কিন্তু নোটেশন আমরা আর জোগাড় করতে পারলাম না।
১৯২৭ সালে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর ইউরোপ যাওয়ার পরে তাকে একটা ছাপানো নোটেশন পাঠানোর জন্য লিখেছিলাম। তিনি তখন মস্কোতে ছিলেন। অনয়াসে তা আমাদের পাঠাতে পারতেন। তা না করে তিনি পাঠালেন তার নিজের একটি বাঙলা অনুবাদ। এটাও আমরা ‘গণবাণী’তে ছেপেছিলাম। নজরুল কিন্তু তার তরজমায় সুর সংযোগ করার সুযোগ আর পায়নি। ১৯২৯ সালে ফিলিপ স্প্রাট যখন বললেন যে তিনিই স্বরলিপি তৈয়ার করে দিবেন (ফিলিপ স্প্রাট গান জানতেন) তখন আমরা তো বহু বৎসরের জন্য জেলে চলে গেলাম।’
মুজফফর আহমদের লেখা থেকেই জানা যায়, ‘গণবাণী’তে সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুরকৃত অনুবাদটি ছাপা হয়েছিল। এটি সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখিত ‘নয়া দুনিয়ার গান’ এ পুনমুদ্রিত হয়। সেখান থেকে গানটি ‘সাহিত্যসাধক চরিতমালা’র সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনীতে লেখক সোমেন্দ্রনাথ বসু উদ্ধার করে দিয়েছেন।
গানটি এরকম–
ওঠ রে জেগে উপবাসী অন্নহীনের দল
মোদের বুক জ্বলে দিবানিশি, শেষ যুদ্ধের তরে সবে চল।
শোন তোরা শোন গভীর গর্জন, জাগে সৃষ্টি নব-বল।
করে ছিন্ন দাস-বন্ধন হবো জয়ী মোরা সর্বহারা দল।
ধূয়া
হবে এই বিরোধেতে ঠিক জেনো কার হার কার জিত
বিশ্বসঙ্ঘ যোঝে তরে বিশ্বমানব হিত
মোদের মুক্তি কভু দেবে নাকো রাজা রানী বাবুদল,
মোদের মুক্তি মোরা লভিব গো দিয়ে আপন বাহুবল।
নিজ বাহুর বলে তা সাধিতে ফিরে পেতে নিজ ধন
জ্বালো আগুন অরাত দহিতে আছে সময় যতক্ষণ।
ধূয়াহবে এই বিরোধেতে ঠিক জেনো ইত্যাদি
শুধু মোরা শ্রমিক বিশ্বজোড়া শ্রমের সৈন্যদল
বিশ্ব-শাসন করবো মোরা নহে শোষণবাদীর দল।
ওদের পালা যবে হবে সারা তবে জাগবে জনগণ
ঝরবে রবির আলোকধারা ধরায় অনুক্ষণ
ধূয়াহবে এই বিরোধেতে ঠিক জেনো ইত্যাদি।
পরবর্তীকালে মূল গানটির আরো একটি বাংলা অনুবাদ প্রচলিত হয়। অনুবাদক মোহিত বন্দ্যোপাধ্যায়। এটিকে বরং মূল গানেন সরাসরি অনুবাদ বলা চলে। এই অনুবাদটি পূর্বের অনুবাদগুলোর চেয়ে অনেকটা প্রাঞ্জল।
মোহিত বন্দ্যোপাধ্যায় অনূদিত গানটি নিন্মরূপ,
জাগো জাগো সর্বহারা
অনশন বন্দি ক্রীতদাস,
শ্রমিক দিয়েছে আজ সারা
উঠিয়াছে মুক্তির আশ্বাস।
সনাতন জীর্ণ কু-আচার
চূর্ণ করে জাগো জনগণ
ঘুচাও এ দৈন্য হাহাকার
জীবন মরণ করি পণ
শেষ যুদ্ধ শুরু আজ কমরেড
এসো মোরা মিলি একসাথ
গাও ইন্টারন্যাশনাল
মিলাবে মানবজাত।।
বাংলাভাষীদের মধ্যে এই অনুবাদটি বেশি গাওয়া হয়।
সারা দুনিয়ার মেহনতী মানুষের প্রাণের ঐক্যবদ্ধতার প্রতীক এই গানটি। ফরাসি শ্রমিক কবি ইউজিন পতিয়ের মেহনতি মানুষের প্রাণের স্পন্দন তাঁর বুকে ধারণ করতেন। শ্রমিকশ্রেণির মুক্তির জন্য নিজে গোটা জীবন লড়াই-সংগ্রাম করেছেন।
এই মহান শ্রমিক কবির ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে। তার এক বছর পর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩ জানুয়ারি লেনিন তাঁর সম্পর্কে লিখেছিলেন,
’বিখ্যাত প্রলেতারীয় গান ‘আন্তর্জাতিকের’ রচয়িতা ফরাসি শ্রমিক কবি ইউজিন পতিয়েরের মৃত্যুর পর থেকে পঁচিশ বছর পুরেছিল গতবছর ১৯১২ সালের নভেম্বর মাসে। সমন্ত ইউরোপীয় এবং অন্যান্য ভাষায় গানটির তরজমা হয়েছে। কোনও শ্রেণিসচেতন শ্রমিক যে কোনও দেশে গিয়ে পড়ুন, নিয়তি তাকে যেখানেই ফেলুক না কেন, ভাষা-ছাড়া, বন্ধু-বান্ধব ছাড়া, স্বদেশভূমি থেকে বহু দূরে – তিনি কমরেড আর বন্ধুবান্ধব পেয়ে যেতে পারেন ‘আন্তর্জাতিকের’ সুপরিচিত সুর দিয়ে।
সমস্ত দেশের শ্রমিক তাদের সবচেয়ে আগুয়ান যোদ্ধার, প্রলেতারিয়ান কবির গানটিকে গ্রহণ করেছে, সেটাকে করে তুলেছে প্রলেতারিয়েতের পৃথিবীজোড়া গান।
একইভাবে সমস্ত দেশের শ্রমিক ইউজিন পতিয়েরের স্মৃতিকে সম্মান করে। তাঁর স্ত্রী আর মেয়ে এখনও বেঁচে আছেন, তাঁরা আছেন দারিদ্র্যের মধ্যে, যেভাবে সারা জীবন কাটিয়ে গেছেন ‘আন্তর্জাতিকের’ রচয়িতা। ১৮১৬ সালে ৪ অক্টোবর প্যারিসে তাঁর জন্ম হয়। প্রথম গান রচনার সময়ে তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর, এই গানটির নাম ‘মুক্তি জিন্দাবাদ’। ১৮৪৮ সালে বুর্জোয়াদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের মহাযুদ্ধে তিনি ছিলেন ব্যারিকেডের যোদ্ধা।
পতিয়েরের জন্ম হয়েছিল গরিব পরিবারে, সারা জীবন তিনি থেকে গিয়েছিলেন গরিব মানুষ, প্রলেতারিয়ানদের সঙ্গে। তাঁর রুটিরুজির রোজগার হত প্যাকারের কাজ করে এবং পরে কাপড়ের নকশা এঁকে।
১৮৪০ সাল থেকে তিনি ফরাসিদের জীবনের সমস্ত বড় ঘটনায় সাড়া দিয়েছেন সংগ্রামী গান বেঁধে, জাগিয়ে তুলেছেন অনগ্রসরদের চেতনা, শ্রমিকদের এক হতে ডাক দিয়েছেন, ধিক্কার দিয়েছেন বুর্জোয়াদের এবং ফ্রান্সের বুর্জোয়া সরকারগুলির ওপর।
মহান ‘প্যারিস কমিউনে’র (১৮৭১) দিনগুলিতে পতিয়ের তার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রদত্ত ৩,৬০০ ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছিলেন ৩,৩৫২টি। প্রথম প্রলেতারিয় সরকার কমিউনের সমস্ত কাজে তিনি অংশগ্রহণ করতেন।
কমিউন পতনের ফলে পতিয়ের বাধ্য হয়ে পালিয়ে ইংলান্ডে এবং পরে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত গান ‘আন্তর্জাতিক’ রচিত হয়েছিল ১৮৭১ সালের জুন মাসে -বলা যেতে পারে, মে মাসের রক্তাক্ত পরাজয়ের পরদিন….
ইউজিন পতিয়ের সম্পর্ক লেনিন আরো লিখেছেন, ‘কমিউন চূর্ণ হল কিন্তু, পতিয়েরের ‘আন্তর্জাতিক’ তার ভাব-ভাবনা ছড়িয়েছে সারা পৃথিবীতে, আর এখন সেটা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে প্রাণবন্ত। (লেনিন একথা যখন বলেন তখন তিনি বলশেভিক পার্টির নেতা এবং যে পাটি এর ৪ বছর পর রুশবিপ্লব সংঘটিত করে।)
এরপর লেনিন লিখেছেন, ‘১৮৭৬ সালে, নির্বাসনে পতিয়ের একটা কবিতা লিখেছিলেন, ‘ফ্রান্সের মেহনতিদের উদ্দেশ্যে আমেরিকার মেহনতিরা’, এতে তিনি বর্ণনা করেছিলেন পুঁজিতন্ত্রের জোয়াল পরানো শ্রমিকদের জীবন, তাদের গরিবি, তাদের হাড়ভাঙা খাটুনি, তাদের ওপর শোষণ এবং তাদের আদর্শের আগামী বিজয়ের প্রতি তাদের দৃঢ় আস্থা।
কমিউন শুরুর নয় বছর পরে পতিয়ের ফ্রান্সে গিয়েছিলেন, সেখানে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই যোগ দিয়েছিলেন, ‘শ্রমিক পার্টিতে’।
তাঁর রচনার প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৮৪ সালে, ‘বৈপ্লবিক গীতিমালা’ নামে দ্বিতীয় খণ্ড বেরিয়েছিল ১৮৮৭ সালে।
এই শ্রমিক-কবির অন্যান্য কতগুলি গান প্রকাশিত হয়েছিল তিনি মারা যাবার পরে।১৮৮৭ সালের ৮ নভেম্বর প্যারিসের শ্রমিকের ইউজিন পতিয়েরের মরদেহটিকে নিয়ে গিয়েছিল পিয়ের লাশেজ কবরখানায়, বধ-করা কমিউনার্ডদের কবর দেয়া হয় সেখানে। লালঝান্ডা ছিনিয়ে নেবার চেষ্টায় পুলিশ জমায়েতের ওপর হিংস্র হামলা চালিয়েছিল। এই নাগরিক অন্ত্যোষ্টিক্রিয়ায় শামিল হয়েছিল বিরাট জনসমষ্টি। চারদিক থেকে আওয়াজ উঠেছিল ‘পতিয়ের জিন্দাবাদ’।
পতিয়ের মারা গেলেন দরিদ্র-দশার মধ্যে। কিন্তু, যে স্মারণিক তিনি রেখে গেলেন সেটা যথার্থই মানুষের সৃষ্টির চেয়ে স্থায়ী। সর্বশ্রেষ্ঠ গানে -প্রচারকদের মধ্যে তিনি একজন। তাঁর প্রথম গান রচনার সময়ে শ্রমিক সমাজতন্ত্রীদের সংখ্যা ছিল বড়জোড় কয়েক দশক। ইউজিন পতিয়েরের ঐতিহাসিক গানটিকে এখন জানে কোটি কোটি প্রলেতারিয়ান।’
পতিয়ের সম্পর্কে লেনিনের কথাতে তাঁর সম্পূর্ণ পরিচয় বিধৃত হয়েছে। পৃথিবীতে মানব ইতিহাসের চেয়ে মানুষের শ্রম ও সৃজনশীলতার ইতিহাস অনেক বেশি চমকপ্রদ এবং তাৎপর্যময়। মহাকালের তুলনায় মানুষ বাঁচে সামান্য কিছুদিন কিন্তু তাঁর সৃষ্টি কালে কালে মানবসভ্যতায় আলোকবর্তিকা হিসাবে টিকে থাকে। কিছু মানুষ দৈনন্দিনেরর জীবনসংগ্রামকে জয় করে সমগ্র মানবসমাজের জন্য নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত থাকে বলেই পরবর্তী প্রজন্ম আলোকিত পথ দেখতে পায়। অন্তরের দিক থেকে কোথাও পঙ্গু না হয়ে গেলে ইতিহাসের সেইসব মানুষের জীবন-সংগ্রাম আমাদের বিস্মিত না করে পারে না।
